কাতার–পরবর্তী পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে ব্রাজিল। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তার আগে নিজেদের শক্তি–দুর্বলতা যাচাই করতে ইউরোপের অন্যতম ফর্মে থাকা দল নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছে সেলেসাওরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানো।
আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। সে লড়াইয়ে যেমন নজর থাকবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্লিং হালান্ডের ওপর, ঠিক তেমনি জাতীয় দলের জার্সিতেও দুজনের সম্ভাব্য লড়াই ফুটবল বিশ্বে বাড়িয়েছে আগ্রহ। তারই ধারাবাহিকতায় ব্রাজিল–নরওয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের আলোচনা ফুটবল দুনিয়ায় নতুন উন্মাদনা যোগ করেছে। নরওয়ে এবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দেখিয়েছে একচ্ছত্র দাপট। ৮ ম্যাচে ৮ জয়, ৩২ গোল—ইতালিসহ শক্তিশালী দল নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা। দলটির আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেওয়া হালান্ড করেছেন বাছাইয়ের সর্বোচ্চ ১৬ গোল।
এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চায় ব্রাজিল। নরওয়ের শীর্ষ গণমাধ্যম ভিজি–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কায়েতানো বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের প্রথম পছন্দ নরওয়ে। তারা এখন খুব শক্তিশালী দল।’ নরওয়েজিয়ান ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার আর্নে শেই মনে করেন, ব্রাজিলের এই আগ্রহ নরওয়ের অসাধারণ বাছাইপর্বের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া নরওয়ের জন্য দারুণ ব্যাপার। ব্রাজিলের সঙ্গে কখনো হারেনি নরওয়ে—এটাও একটি বাড়তি অনুপ্রেরণা।’
এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল।
প্রথমবার ১৯৮৮ সালে—১-১ ড্র
১৯৯৭ সালে উলেভালে নরওয়ের ৪-২ জয়
১৯৯৮ বিশ্বকাপে নরওয়ের ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয়
২০০৬ সালে আবারও ১-১ ড্র
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অপ্রতিরোধ্য নরওয়ের বিপক্ষে খেলাটা ব্রাজিলের জন্য হবে শক্তিমত্তা যাচাইয়ের বড় পরীক্ষা। নরওয়ের অটল রক্ষণভাগ আর গোলমুখে ধারালো আক্রমণের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্স সেলেসাওদের মনোবল বাড়িয়ে দেবে, এমনটাই বিশ্বাস ব্রাজিল শিবিরের।
২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল তাদের অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন, মরক্কোর বিপক্ষে। ‘আই’ গ্রুপে নরওয়ের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন—প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে প্লে-অফের মাধ্যমে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!