আইন-আদালত

মামলার জট কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আপডেট: মে ০১, ২০২৬ : ০৬:০২ এএম
মামলার জট কমাতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী

দেশে মামলার জট কমাতে এবং বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে চলতি অধিবেশনেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত আইনের সংশোধন পাস করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারি, হলফনামার মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল, সরাসরি জেরা গ্রহণ এবং একই মামলার মধ্যেই ডিক্রি বাস্তবায়নের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে আলাদা এক্সিকিউশন মামলা করার প্রয়োজন হবে না।

ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমাতে প্রক্রিয়াগত ধাপ সহজ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমন জারি করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০২০ অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্য এখন অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে, ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের ওপর চাপ কমাতে পৃথক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৭১টি আদালত ও ২৩২টি বিচারক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরও ৩০৪টি পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী জজ ও ১ হাজার ২০০ জনের বেশি বিচারিক কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

আইনগত সহায়তা সেবা (সংশোধন) আইনের আওতায় কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে পরীক্ষামূলক জেলাগুলোতে মামলার সংখ্যা কমেছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা সম্প্রসারণে হটলাইন ১৬৬৯৯, অনলাইন সেবা এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২৩টি জেলায় প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা সম্প্রসারণে ই-বেইল বন্ড, ই-ফ্যামিলি কোর্ট এবং অনলাইন কজলিস্ট চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সব জেলা ও আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিচারপ্রার্থীরা সহজে সেবা পান। ডিজিটাল বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ ই-জুডিশিয়ারি ব্যবস্থা চালুর কাজও চলমান রয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারসেবা পাবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!