জাতীয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় সম্পদের ব্যবহারে জোর

আপডেট: মে ১৩, ২০২৬ : ০৭:২৪ এএম ৭১০০২
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় সম্পদের ব্যবহারে জোর
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা। তাঁদের মতে, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত জ্বালানি নীতি গ্রহণ জরুরি।

বুধবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা” শীর্ষক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করা হয় জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সুপারিশমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ। সঞ্চালনা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) প্রকৌশলী শেখ আল আমিন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম মজুমদার, বাপেক্সের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শওকত ফেরদৌস, স্রেডার পরিচালক প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পরিচালক প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদারসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ।

বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আমদানিনির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে অনশোর ও অফশোর ব্লকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচনায় আরও বলা হয়, এলএনজি, কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে হবে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, জ্বালানি সরবরাহ সক্ষমতা ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নিশ্চিত করার তাগিদও দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম রোধে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশও করা হয়।

কর্মশালায় আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য, প্রকৌশল সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!