আইন-আদালত

কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট: আগ ০৪, ২০২৬ : ০৫:৫৯ এএম
কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চার বছর আগে দুই তরুণীকে অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাহুল, মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামির কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামিকে রায় ঘোষণার পর কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় বাসায় ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন দুই তরুণী ও তাঁদের কয়েকজন বন্ধু। এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসা আসামিরা তাঁদের পথরোধ করে মারধর করে এবং দুই তরুণীকে জোর করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের ও তাঁদের বন্ধুদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীদের বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে।

ঘটনার চার দিন পর, ২৯ জুন, এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তের সময় র‍্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

পরে তদন্ত শেষে পুলিশ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!