আইন-আদালত

রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ: দুই আসামির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

আপডেট: আগ ১৫, ২০২৬ : ০৬:০৭ এএম
রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ: দুই আসামির আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কার্যতালিকায় মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় রামিসাকে

রামিসার বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পল্লবী থানার সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

দ্রুত শেষ হয় মামলার বিচার

মামলার তদন্ত শেষে গত ২৫ মে সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

এর আগে ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এক দিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।

হত্যার ১৯ দিনের মাথায় রায়

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এ দণ্ড কার্যকর করা যাবে।

এ ছাড়া সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে সেই অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।

এবার হাইকোর্টে

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে দুই আসামিও হাইকোর্টে জেল আপিল করেন।
এখন আসামিদের আপিল এবং মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য আসা ডেথ রেফারেন্সের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!