আইন-আদালত

সমন যথাযথ হলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

আপডেট: আগ ১৬, ২০২৬ : ০৬:১৬ এএম
সমন যথাযথ হলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

মামলার সমন বিবাদীর সঠিক ঠিকানায় যথাযথভাবে পৌঁছানোর প্রমাণ থাকলে, শুধু সমন পাননি—এমন দাবি করে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারার ১৩ বিধির অধীনে করা একটি রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে হাইকোর্ট এ রায় দেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় ও আদেশের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘মো. মনজুর রহমান মণ্ডল ও অন্যান্য বনাম মোছা. লতিফা বেওয়া ও অন্যান্য’ মামলায় এ রায় দেওয়া হয়। গত ২১ জুলাই বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০০০ সালে ৯১ একর জমির বাটোয়ারা চেয়ে জয়পুরহাটের সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন মোছা. লতিফা বেওয়াসহ অন্যরা। মামলায় মো. মনজুর রহমান মণ্ডলসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।

২০০১ সালের ১৬ আগস্ট বিবাদীদের অনুপস্থিতিতে মামলাটিতে একতরফা ডিক্রি হয়। পরে মনজুর রহমান মণ্ডলসহ অন্যরা দাবি করেন, তাঁদের নামে কোনো সমন জারি করা হয়নি এবং তাঁরা মামলাটির বিষয়েও জানতেন না।

সমন জারির বিষয়ে মিথ্যা সার্ভিস রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ২০০২ সালের ১৬ জুলাই একতরফা ডিক্রি বাতিল চেয়ে জয়পুরহাটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন তাঁরা।

তবে নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ২০০৮ সালের ৬ মার্চ ওই মামলা খারিজ করে দেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত।

এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে জয়পুরহাটের জেলা জজ আদালতে মিস আপিল করেন আবেদনকারীরা। মামলাটি পরে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ২০১১ সালের ৫ জুন অতিরিক্ত জেলা জজ আপিলটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

এরপর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন করেন মনজুর রহমান মণ্ডলসহ অন্যরা। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় করা ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং নিম্ন আদালতের রায় ও আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উঠলে সেদিন উভয় পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। পরে বিচারপতি নিজেই রিভিশন আবেদন, এতে উত্থাপিত বিষয় এবং নিম্ন আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর সাক্ষ্য ও উভয় আদালতের সিদ্ধান্তও বিশ্লেষণ করেন।

হাইকোর্ট বলেন, এ মামলায় বিচারিক আদালত ও অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, মূল মামলার সমন আবেদনকারীদের আরজিতে উল্লেখ করা ঠিকানায় যথাযথভাবে জারি করা হয়েছিল। ওই ঠিকানাটি সংশ্লিষ্ট সময়ে তাঁদের প্রকৃত ঠিকানা ছিল এবং তাঁদের এক নিকটাত্মীয় সমন গ্রহণ করেছিলেন।

আদালত বলেন, এ সিদ্ধান্ত কেবল অনুমান বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি। বরং আবেদনকারী নিজেই তাঁর সাক্ষ্য ও জেরায় বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সমন জারির বিষয়ে অধস্তন আদালতগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্তে কোনো আইনগত ত্রুটি বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, নিম্ন আদালত দুটি পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত দিয়েছে—আবেদনে করা এমন দাবি নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উভয় আদালত একই সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

হাইকোর্ট আরও বলেন, নিম্ন আদালতগুলোর নেওয়া যৌথ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো যুক্তি নেই। এসব বিবেচনায় আগে জারি করা রুলের কোনো সারবত্তা না থাকায় তা খারিজ করা হলো।

একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের রায় ও আদেশের কার্যকারিতার ওপর জারি করা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেন হাইকোর্ট।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!