জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কবি ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর ভাষ্য, আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমাদের নজরুল তারেক রহমান।’
দেশে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কঠিন সময়েও মানুষের পাশে থেকেছেন।
তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না। বাঙালি জাতি যে নজরুলকে পেয়েছে, তাঁকে অবহেলা করলে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা উপলব্ধি করে তাঁর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের নানা দিক তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মানুষের অধিকার ছিল নজরুলের লেখার অন্যতম বিষয়। তিনি নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কথা বলেছেন। এ কারণে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।
চিফ হুইপ বলেন, নজরুল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কবি নন, তিনি সব মানুষের কবি। তাঁর লেখায় যেমন দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেম, মানবতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুলকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ না করে তাঁর আদর্শ ও মানবিক চেতনাকে জীবনে ধারণ করতে হবে।
দেশের বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সময় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ জন্য জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁর অবদান স্মরণীয়। বর্তমান বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুহাম্মদ আব্দুল মালিক, এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন খায়রুল কবির খোকন, এমপি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। এতে সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!