আইন-আদালত

প্রত্যেক গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট: আগ ৩০, ২০২৬ : ০৫:২২ এএম
প্রত্যেক গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, দেশে সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। যারা গুমের শিকার হয়েছেন এবং এখনো যাদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের কোনো সন্ধান পাননি, তাঁদের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাঁদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার না হন।’

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের যত বড় ব্যক্তি হোক, কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। গুমের অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুমের অভিযোগে প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের মধ্যেই এসব অভিযোগের তদন্ত শেষ করে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের অভিযোগের বিচার কার্যক্রমও চলছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক গুম একটি গুরুতর মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় কোনো ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে তাঁর পরিবার দীর্ঘ সময় কোনো তথ্য জানতে পারে না। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার যেমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে, তেমনি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাঁদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!