আইন-আদালত

ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

আপডেট: সেপ্টে ২০, ২০২৬ : ০৪:৫৪ এএম
ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য শ্রম, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, শর্টকাট পথে অর্থবিত্ত অর্জন করা সম্ভব হলেও তাতে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না।

শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনজীবীদের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সমাজ নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। আইনজীবীরা আইনগত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। তাই একজন আইনজীবীর প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দচয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একজন আইনজীবী একই সঙ্গে মক্কেলের প্রতি দায়বদ্ধ এবং আদালতের একজন কর্মকর্তা। মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাও আইনজীবীর দায়িত্ব।

আইনমন্ত্রী বলেন, মক্কেল বিপদে পড়ে আইনজীবীর কাছে আসেন এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা দেওয়া আইনজীবীর দায়িত্ব। পেশাগত জীবনে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় প্রয়োজনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনার মানসিকতা থাকা উচিত।

পেশাগত জীবনের বিভিন্ন ধাপের কথা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই দীর্ঘ সময় আয় ছাড়াই কাজ করতে হয়। পরে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ ও আয় বাড়ে। দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমই একজন আইনজীবীর পেশাগত মূল্য তৈরি করে।

তরুণ আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা ধরনের ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা ও প্রলোভনের মুখোমুখি হতে হবে। তবে তাঁদের সত্য ও ন্যায়সংগত পথ বেছে নিতে হবে। সততা, মানবিকতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে পারলে একজন আইনজীবী সফল হতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাঁদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আরও প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আইন সংস্কারে আইন শিক্ষার্থীদেরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আইনে অসংগতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যেতে পারে। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, বোর্ডের সদস্য এম. এ. কাশেম ও বেনজীর আহমেদ, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ বক্তব্য দেন। পরে ল ফেস্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!