চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মেয়াদকাল নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তাঁর দাবি, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি বৈধ মেয়র এবং তাঁর মেয়াদ চলবে ২০২৯ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।
সোমবার রাতে নগরের সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে তাঁর মেয়াদকাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে এবং সেটি বাতিল করতে হলে নতুন করে আদালতের আদেশ প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি সাবেক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
শাহাদাত বলেন, আদালতের আদেশ ইংরেজিতে হওয়ায় অনেকেই তা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না। তবে ওই আদেশে কেন তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর হবে এবং কেন আগের নির্বাচন বাতিল হয়েছে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেও নির্বাচন চান। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রশ্ন ওঠে না। “একটা শহর তো কাউকে দায়িত্ব দিয়েই পরিচালনা করতে হবে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদালত শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করলেও তাঁর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আইন অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম সভা থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পটভূমি
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী জয়ী হন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন।
দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত রায় দিয়ে শাহাদাতকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশন সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।
তবে তাঁর মেয়াদকাল নিয়ে এখনো স্পষ্টতা না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!