টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও আড়াই হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টরে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৪৯ হাজার কৃষক।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে পারছেন না, এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও পরে রোদ ওঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.২৬ মিটার, চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৫৮ মিটারে পৌঁছেছে। সবগুলো পয়েন্টেই পানির স্তর আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।
তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি সামান্য কমে ১.৭২ মিটারে নেমেছে। পাউবো জানিয়েছে, সব নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে তলিয়ে যাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ধান শুকাতে না পেরে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই, এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ইতোমধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলের প্রায় ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!