ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
অন্যদিকে ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানির স্তর বাড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকে পড়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুরে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধের কাছাকাছি চলে এসেছে। কোথাও কোথাও বাঁধের পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাত কমলে পানি নেমে যাবে। এখনো বাঁধ ভাঙার কোনো খবর নেই। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!