পবিত্র কোরআনুল কারিম মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এর তেলাওয়াত, শিক্ষা ও চর্চার মাধ্যমে মুমিনরা দুনিয়া ও আখিরাতে অসীম ফজিলত লাভ করেন। কোরআনের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বহু বাণী প্রদান করেছেন। নিচে সেসবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো—
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দক্ষতার সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত করে, সে সম্মানিত ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে কষ্ট করে তোতলাতে তোতলাতে কোরআন পড়ে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন কোরআনের ধারককে বলা হবে, তুমি তেলাওয়াত করতে করতে উপরে উঠতে থাকো, যেমন দুনিয়ায় ধীরে ধীরে পড়তে। তোমার অবস্থান হবে তোমার শেষ আয়াতের জায়গায়। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কোরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়। (বুখারী)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআনের প্রতিটি অক্ষরে নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। (তিরমিজি)
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআন তেলাওয়াত করো, কারণ এটি কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হবে। (মুসলিম)
হজরত আন-নওয়াস ইবনে সামআন (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআন ও তার ওপর আমলকারীদের কিয়ামতের দিন হাজির করা হবে। সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে। (মুসলিম)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা আল্লাহর ঘরে একত্র হয়ে কোরআন তেলাওয়াত ও আলোচনা করে, তাদের ওপর প্রশান্তি নাজিল হয়, রহমত ঢেকে নেয় এবং ফেরেশতারা ঘিরে রাখে। (মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার অন্তরে কোরআনের কোনো অংশ নেই, সে যেন একটি পরিত্যক্ত ঘর। (তিরমিজি)
হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআনের চর্চা অব্যাহত রাখো, কারণ এটি উটের বাঁধন খোলা থাকলে যেভাবে পালিয়ে যায়, সেভাবে মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শুধু দুই ব্যক্তির বিষয়ে ঈর্ষা করা বৈধ—একজন যাকে আল্লাহ কোরআনের জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে তা তেলাওয়াত ও চর্চা করে, আর অন্যজন যাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে। (বুখারী ও মুসলিম)
হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চা শুধু ইবাদত নয়; এটি একজন মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!