রমজানের পর আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মাস হিসেবে বিবেচিত হয় মহররম মাস। এর মধ্যকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো আশুরা, অর্থাৎ মহররমের ১০ তারিখ। এ দিনকে কেন্দ্র করে রোজা ও ইবাদতের বিশেষ ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
ইসলামি ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সাহাবিরা আশুরার দিন রোজা রাখা এবং নানাবিধ ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করতেন। এমনকি তারা শিশুদেরও এ দিনে রোজার অভ্যাস করাতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়।
সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রুবাইয়ি’ বিনতে মুআববিয (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন সকালে ঘোষণা পাঠান— যে ব্যক্তি সকালে খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশ না খায়; আর যে খায়নি, সে যেন রোজা পূর্ণ করে। এরপর থেকে সাহাবিরা এ দিন রোজা রাখতেন এবং সন্তানদেরও এতে অভ্যস্ত করাতেন।
আশুরার রোজা পালনের ক্ষেত্রে নবী করিম (সা.) ১০ মহররমের সঙ্গে ৯ বা ১১ মহররমে অতিরিক্ত একটি রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে হাদিসে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) ইহুদিদের বিরোধিতা করতে ৯ তারিখেও রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
ইসলামি আলেমদের মতে, আশুরার রোজা রাখার উত্তম পদ্ধতি হলো ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম—এইভাবে দুই দিন রোজা রাখা। কেউ চাইলে তিন দিন (৯, ১০ ও ১১ মহররম) রোজা রাখাও উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে শুধু ১০ মহররমের রোজা রাখলেও এর ফজিলত অর্জন করা যাবে বলে আলেমরা মত দিয়েছেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!