ধর্ম

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্মমন্ত্রী

আপডেট: সেপ্টে ১১, ২০২৬ : ০৬:২৬ এএম
ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, এই বরাদ্দের আওতায় ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানি প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ ও ৬৭ জন উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

হজের অব্যয়িত অর্থ ফেরতের দাবি

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিরা তাঁদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত পেয়েছেন—এমন নজির নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে সেই নজির স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এ বছর তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ পৃথিবীর সবার জন্য শাশ্বত আলোকবর্তিকা।

মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র অনুসরণ করে সবাইকে নিজেদের জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া চেয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গুরুত্ব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন আক্তারের প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি অন্য ১১ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!