অর্থনীতি

সব স্তরে শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ, ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি টাকা

আপডেট: এপ্রি ১৮, ২০২৬ : ০৪:৫৮ এএম
সব স্তরে শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ, ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি টাকা

দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’—উভয় ধরনের বৃত্তির হার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বৃত্তির হার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। অর্থ বিভাগের বরাদ্দ সাপেক্ষে এটি কার্যকর করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা সভায় সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, মাউশির প্রস্তাব পাওয়ার পর তা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং পরে অর্থ বিভাগের কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট চাওয়া হবে।

গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকসহ বিভিন্ন স্তরের বৃত্তির মাসিক হার ও বার্ষিক এককালীন অনুদান দ্বিগুণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ২০১৫–১৬ অর্থবছরে বৃত্তির হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা দ্রুত কার্যকর করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে এবং এ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা রয়েছে।

মাউশির খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে মেধাবৃত্তি মাসিক ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়েও বৃত্তির হার দ্বিগুণ করা হবে।

মাসিক ভাতার পাশাপাশি বার্ষিক এককালীন অনুদানের পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরে এ অনুদানও প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাখাতে ঝরে পড়ার হার কমবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ বাড়বে। একই সঙ্গে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা জোরদার হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেওয়া উপবৃত্তিতে কোনো ধরনের দ্বৈততা আছে কি না, তা যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পেশামূলক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি বৃত্তির সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!