অর্থনীতি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট: মে ০৫, ২০২৬ : ০৬:৫৭ এএম
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং এতে উভয় দেশের জন্য ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ থাকে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে তৈরি হয়। এখানে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির প্রাথমিক প্রণয়নকারী না হলেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো ইচ্ছামতো বাতিল করার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং নিজেদের অবস্থানও তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, “আমরা জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।”

দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা (ওভার ক্যাপাসিটি) নেই। পাশাপাশি ডাম্পিংয়ের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্যই আমদানি নির্ভর। আর রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও কমপ্লায়েন্স মেনে পরিচালিত হয়।”

চুক্তি বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান চুক্তির ভেতরেই সংশোধনের সুযোগ রয়েছে, যা ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে কাজ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!