অর্থনীতি

বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট: মে ১৯, ২০২৬ : ০৫:১৩ এএম
বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষ-এ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারে সরকার ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করেছে। এই বৃহৎ উন্নয়ন বাজেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হবে।

নতুন এডিপি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিগত বছরগুলোর স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে সরকার এই বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা দেখিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী একটি নলকূপের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে গেলে যেমন নলকূপে আগে পানি ঢালতে হয়, তেমনি বিনিয়োগ ছাড়া দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়।

মন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও ফান্ড ম্যানেজাররা এখন বাংলাদেশকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, JPMorgan Chase-এর কর্মকর্তারাও বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা দেখে দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে রয়েছে। শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আরও বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসে। দীর্ঘদিন ধরে একই করদাতারা করের বোঝা বহন করেছেন, কিন্তু কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করের আওতা বাড়লে উন্নত সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। আগে রাষ্ট্রীয় সুবিধা সীমিত কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ ভিন্ন ভিন্ন উপকারভোগীদের জন্য নেওয়া হয়েছে। এসব লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের উন্নয়ন কৌশলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!