বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চারটি অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরবর্তী বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীল পণ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। জনগণের স্বার্থে সারা বছর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি টেকসই মূল্য-স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
চা শিল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এ খাত বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একসময় রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শিল্পটিকে পুনরায় শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে শিল্পটির উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের পর বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সফল ও মসৃণভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) ও বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে মৌসুমি সংকট বা অন্য কোনো কারণে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে।
দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে আধুনিক গবেষণা ও তথ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে এফবিসিসিআইকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যা বাণিজ্য ও বাজারসংক্রান্ত গবেষণা এবং তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই স্থায়ী। তাই প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।
সভা পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আব্দুর রহিম খান। এতে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!