অর্থনীতি

ব্যবসা সহজীকরণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে জোর দিচ্ছে সরকার: আমির খসরু

আপডেট: জুন ০৪, ২০২৬ : ০৬:২৪ এএম
ব্যবসা সহজীকরণ ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে জোর দিচ্ছে সরকার: আমির খসরু

ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন খাতে বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতা বেড়েছে। তবে এসব বিধিনিষেধ সাধারণ উদ্যোক্তাদের ওপর বেশি প্রভাব ফেললেও প্রভাবশালী গোষ্ঠী অনেক ক্ষেত্রে এর বাইরে থেকেছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগকে আরও বিস্তৃত করা এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, দেশের কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাজ করলেও প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অর্থায়ন ও বাজারসুবিধার অভাবে তাদের জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।

এই বাস্তবতায় রাজধানীর কাছাকাছি প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর একটি ‘ক্রিয়েটিভ ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সেখানে ক্ষুদ্র ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, বিপণন এবং রপ্তানি–সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোক্তাকে সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সরবরাহ, পণ্যের নকশা উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেল সফল হয়েছে। বাংলাদেশেও স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তারা যেন এক জায়গায় আবেদন করেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। লাইসেন্স ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির সমন্বয়ে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!