দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে অবকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা ও শিক্ষা খাতের আরও কয়েকটি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট সাতটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি পৃথক প্রস্তাবের আওতায় পাঁচ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে দুটি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এ ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ হিসেবে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে আরও তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কার্গো সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এবং দুটি কার্গো সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড।
এই তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ টাকা, যার মধ্যে প্রযোজ্য করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য ৫০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এক কোটি নতুন পাটের বস্তা কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। ই-জিপি পদ্ধতিতে ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে এসব বস্তা সংগ্রহ করা হবে।
অন্যদিকে শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের একটি দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় খাল উন্নয়ন, খাল লাইনিং, ঘাট এবং হাঁটার পথ নির্মাণের কাজ করবে মনিকো লিমিটেড। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে দুটি প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পগুলোর আওতায় নীলফামারী ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
এর মধ্যে নীলফামারীতে ২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৬ কোটি টাকা। যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করবে বিডিই লিমিটেড ও ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড। অন্যদিকে হবিগঞ্জে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা। এ কাজ বাস্তবায়ন করবে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড ও মমিনুল হক।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য সংরক্ষণ ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!