অর্থনীতি

নওগাঁয় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য, বাণিজ্য হতে পারে ৩ হাজার কোটি টাকার

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৪:৩৪ এএম
নওগাঁয় ৪ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য, বাণিজ্য হতে পারে ৩ হাজার কোটি টাকার

দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের কারণে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আমের আবাদ কিছুটা বেড়েছে। গত বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন।

জেলার আমবাগানগুলোর বড় অংশজুড়ে রয়েছে আম্রপালি জাতের আম। এ ছাড়া বারি-৪, আশ্বিনা, ল্যাংড়া, খিরসাপাত, নাক ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হচ্ছে। সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় জেলার অধিকাংশ আমবাগান অবস্থিত।

পোরশা উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা রায়হান আলম জানান, তাঁর ২২০ বিঘা জমির আমবাগানে এবার ফলন ভালো হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টির কারণে সেচ ব্যয় কমেছে এবং আমের আকারও সন্তোষজনক।

একই উপজেলার আমচাষি কামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, প্রায় একশ বিঘা জমিতে তিনি গৌড়মতি জাতের আম চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম হয়েছে এবং ফলন নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষ্য, খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘা জমি থেকে এক লাখ টাকার বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাপাহারের ইসলামপুর গ্রামের চাষি আজগর হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে মুকুল ও ফল দুই-ই ভালো এসেছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

আম ব্যবসায়ীদের মতে, জেলার সাপাহার, নোচনাহার ও মিনাবাজার এলাকার মোকামগুলোকে কেন্দ্র করে মৌসুমজুড়ে বড় আকারের বাণিজ্য হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এসব মোকামে এসে আম সংগ্রহ করেন।

সাপাহার আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, আম পরিবহন ও বিপণন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল বলেন, মুকুল আসার সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ঝরে পড়ার হারও কমেছে। পাশাপাশি কৃষকেরা সময়মতো পরিচর্যা ও বালাই ব্যবস্থাপনা করায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য হতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ বা বাজারজাতকরণ এবং আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!