অর্থনীতি

দুই চিঠির রহস্যে আবারও আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৬:১৩ এএম
দুই চিঠির রহস্যে আবারও আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একই দিনে জারি করা দুটি পৃথক চিঠিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে জারি করা ওই দুটি চিঠিতে পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা থাকায় বন্দর অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভ্রান্তি ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রথম চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া অথবা অনাগ্রহ থাকলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর জারি হওয়া আরেকটি চিঠিতে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠি দুটির বিষয়বস্তু সামনে আসার পর এনসিটি ইস্যুতে বন্দর অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে প্রতিক্রিয়া।

তারা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা নয়, বরং একটি সচল ও লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েই আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের ক্ষেত্রে বিদেশি অপারেটর নিয়োগে তারা আন্দোলনে না গেলেও এনসিটি ভিন্ন বাস্তবতা বহন করে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, এনসিটি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়। বন্দরের ১৮টি কি-গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই এই টার্মিনালে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটরের কাছে গেলে বন্দরের বড় একটি অংশের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ হলে শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। পরে সরকার বিষয়টি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও সাম্প্রতিক চিঠি দুটি প্রকাশ্যে আসায় আবারও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক দলের এক নেতা বলেন, এনসিটি নিয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক দুটি চিঠি তাদের বিস্মিত করেছে। তার দাবি, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই এনসিটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে চিঠি দুটি ঘিরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এনসিটি ঘিরে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক আরও বাড়ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!