অর্থনীতি

রংপুরে রেকর্ড ১ লাখ ৪৩ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন

আপডেট: জুন ০৯, ২০২৬ : ০৫:১১ এএম
রংপুরে রেকর্ড ১ লাখ ৪৩ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলে রেকর্ড ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি সহায়তা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, এবার রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে ১২ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৬ টন পেঁয়াজ।

গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১০ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে চাষ করে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮১১ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫৫ টন।

এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৯১ টন এবং ২০২২-২৩ মৌসুমে ১ লাখ ৪ হাজার ২৬৩ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে পেঁয়াজের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

রংপুর অঞ্চলের ডিএইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭৪ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১১ দশমিক ৮৭ টন, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক। সঠিক শস্য বৈচিত্র্যকরণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আমন ধান কাটার পর কৃষকেরা আগাম পেঁয়াজ চাষ শুরু করেন। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চারা রোপণ ও আগাম ফসল তোলা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারা রোপণ কার্যক্রম চলেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে রংপুর অঞ্চলের খুচরা বাজারে উন্নত মানের স্থানীয় পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষক নূর ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন, বদরগঞ্জের ওসমান গনি এবং কাউনিয়ার আবদুল হাই বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারমূল্যও সন্তোষজনক। ফলে তারা লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষকেরা জানান, সরকারিভাবে উন্নত জাতের বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে পাওয়ায় তারা বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী মৌসুমেও আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!