অর্থনীতি

শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বিনামূল্যে উপকরণ পাচ্ছেন ৮ হাজার কৃষক

আপডেট: জুন ০৯, ২০২৬ : ০৬:০৫ এএম
শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বিনামূল্যে উপকরণ পাচ্ছেন ৮ হাজার কৃষক

দেশে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ২০টি জেলার ৮ হাজার ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষককে বিনামূল্যে বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হবে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত কৃষক ২০ শতক জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবেন।

এর মধ্যে রয়েছে ১৬০ কেজি পেঁয়াজ বীজ (কন্দ), ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার ও একটি বীজ সংরক্ষণ পাত্র। পাশাপাশি পরিচর্যা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ নগদ অর্থ সহায়তাও দেওয়া হবে। প্রতিটি কৃষকের পেছনে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮২৫ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কৃষক সহায়তা পাবেন রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলায়—প্রতিটি জেলায় ১ হাজার করে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে ৯০০ জন, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ৬০০ জন করে, বগুড়ায় ৫০০ জন, মাদারীপুরে ৪০০ জন এবং মানিকগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ৩০০ জন করে কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় আসবেন। গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ অন্যান্য জেলায় প্রতিটিতে ২০০ জন করে কৃষক সুবিধা পাবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত মৌসুমের পেঁয়াজ চাষের তথ্য ও চলতি মৌসুমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরি করা হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন করবেন, যা উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত হবে।

এছাড়া উপকারভোগীদের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, জমির অবস্থানসহ নির্ধারিত ছকে সংরক্ষণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ে পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রণোদনা বিতরণে কৃষক কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উপকরণ গ্রহণের সময় স্বাক্ষর বা টিপসইসহ মাস্টাররোল সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো তালিকাবহির্ভূত ব্যক্তিকে উপকরণ বা অর্থ দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় প্রতি পাঁচজন কৃষককে একটি গ্রুপ হিসেবে ধরে সার বিতরণ করা হবে। বীজ সংগ্রহে বিএডিসি, অনুমোদিত বীজ উদ্যোক্তা ও স্থানীয় উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি গুণগত মান, অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এই কর্মসূচির সার্বিক বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকবে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!