অর্থনীতি

এটি কোনো দল বা গোষ্ঠীর বাজেট নয়, দেশের সব মানুষের জন্য : অর্থমন্ত্রী

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬ : ০৪:৫৯ এএম
এটি কোনো দল বা গোষ্ঠীর বাজেট নয়, দেশের সব মানুষের জন্য : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; বরং দেশের সব মানুষের প্রয়োজন, সম্ভাবনা ও জীবনমান উন্নয়নকে সামনে রেখেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে “সবার বাজেট” হিসেবে দেখা উচিত। কৃষক, শ্রমিক, নারী, উদ্যোক্তা, শিল্পী, কারুশিল্পীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হয়েছিল, যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা পেলেও অনেক মানুষ মূলধারার বাইরে থেকে গেছে। নতুন বাজেটের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণমুখী করা।

“আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট করি না। এমন কোনো বাংলাদেশি নেই, যিনি এই বাজেটের বাইরে থাকবেন,” বলেন অর্থমন্ত্রী। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক নীতি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে সম্ভব নয়; বরং নীতি সংস্কার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা ব্যয় কমানোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি জানান, বন্দরে কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যাংকঋণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে পারলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আলাদা সংখ্যাগত লক্ষ্য নির্ধারণ না করা হলেও বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। শিক্ষা, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তিনি আরও জানান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এবারের বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।

ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে জোর

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁত, কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারের মতো সৃজনশীল খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যাংকিং খাত ও ডিজিটাল অর্থনীতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল রাখতে তারল্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে টাস্কফোর্স কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে, যা ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ করবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাস্তবায়নেই মূল চ্যালেঞ্জ

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন এবং তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “নীতিমালা নয়, বাস্তবায়নই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। ঘোষিত পরিকল্পনার বড় অংশ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!