প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। তবে দীর্ঘমেয়াদে করব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
বাজেট–পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছে। এসব অর্থ আবাসনসহ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে তা অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান। ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৬৯টি শিল্পখাত সম্পৃক্ত। ফলে নতুন বিনিয়োগ এলে রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাবপত্র ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলে অর্থনীতির মূলধারায় নতুন অর্থ যুক্ত হবে এবং আবাসন খাতসহ অন্যান্য খাতও উপকৃত হবে।
তবে নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বিশেষ করে রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে আবাসন খাতের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট ও আবাসন ক্রেতাদের ওপর পড়বে।
তিনি নির্মাণসামগ্রীর ওপর প্রস্তাবিত কর পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রিহ্যাবের মতে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ সাময়িকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি করব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হবে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!