অর্থনীতি

বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই

আপডেট: জুন ১৪, ২০২৬ : ০৫:৪৮ এএম
বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার বড় হলেও যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই।

বাজেট পরবর্তী এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সংগঠনটি বলেছে, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে।

এফবিসিসিআই জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—যা ইতিবাচক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় তা অর্জনযোগ্য। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে তারা।

এফবিসিসিআই আরও বলেছে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত চাপ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটি আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধের বিষয়টিকে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাজেট বাস্তবায়নের পথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন কর–জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এফবিসিসিআই।

অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, লজিস্টিক উন্নয়ন এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এসএমই খাত, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপ খাতে বরাদ্দ ও কর সুবিধাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। তবে নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত কিছু পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, এতে নির্মাণ ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

এফবিসিসিআই কর ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়তা, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, করভিত্তি সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছে।একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার কমানো, তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হার হ্রাস এবং টার্নওভার কর কমানোর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই বলেছে, সঠিক বাস্তবায়ন হলে এটি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!