অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে কেন

আপডেট: জুন ১৪, ২০২৬ : ০৬:৩৪ এএম
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে কেন

বিশ্বে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দামও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা চললেও এবার উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

কেন কমছে সোনার দাম

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল কারণ হলো উচ্চ সুদের হার এবং মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়াতে পারে বা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ হার বজায় রাখতে পারে।

উচ্চ সুদের পরিবেশে সাধারণত সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা কোনো সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না, এটি কেবল মূল্যবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল একটি সম্পদ। ফলে সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা ডলার বা বন্ডের মতো আয়-সৃষ্টিকারী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের প্রভাব

বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির দাম ওঠানামার কারণে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শক্তিশালী মার্কিন ডলারও সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ডলার শক্তিশালী থাকলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে যায়, ফলে চাহিদা কমে।

বিশ্লেষকদের মত

অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, সোনা এমন একটি সম্পদ যা থেকে সরাসরি কোনো আয় আসে না। তাই সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক সম্পদের দিকে ঝোঁকে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম বলেন, ডলার শক্তিশালী থাকলে সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়, আর ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম বাড়ে। তবে ভবিষ্যতে বাজার কোন দিকে যাবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: আলজাজিরা

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!