ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং প্রদত্ত অর্থ পরিবারের নারীর হাতেই রাখতে কঠোর নজরদারি করা হবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ছিল। তবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে এমন কোনো সুযোগ রাখা হবে না। সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তি সহজ করতেই এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। উপকারভোগীদের দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে এই সহায়তা কতটা ভূমিকা রাখছে, তা পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের বড় ব্যয়ের এ কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কোনো পরিবারের নারী সদস্য মারা গেলে এবং পরিবারের দায়িত্ব একজন পিতা একাই বহন করলে সে বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্ডধারী কৃষক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, অর্থসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!