অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিকে নিয়ে সতর্কতা জারি ডিএসইর

আপডেট: জুন ১৮, ২০২৬ : ০৬:১২ এএম
শেয়ারবাজারে ৬২ কোম্পানিকে নিয়ে সতর্কতা জারি ডিএসইর

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি বন্ধ এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ডিএসইর নিজস্ব ওয়েবসাইটে সম্প্রতি এসব কোম্পানির পৃথক দুটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ডিএসই সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ও আর্থিকভাবে দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে জন্যই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একে তারা “রেড এলার্ট” বা সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বন্ধ ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলস-এর লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপরই ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে এই নতুন সতর্ক তালিকা প্রকাশ করে ডিএসই।

বন্ধ কোম্পানি ৩২টি

ডিএসইর তালিকায় থাকা বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, বিডি ওয়েল্ডিং, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলিটেক্স, জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট, হামিদ ফেব্রিকস, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পিইটি, মেট্রো স্পিনিং, মিথুন নিটিং, নিউলাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, নুরানী ডায়িং, প্যাসিফিক ডেনিমস, প্রাইম টেক্সটাইলস, রহিমা ফুড, আরএসআরএম স্টিল, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, তুংহাই নিটিং, উসমানিয়া গ্লাস, ইয়াকিন পলিমার ও জাহিন স্পিনিংসহ মোট ৩২টি কোম্পানি।

তালিকা প্রকাশের পরদিনই এসব বন্ধ কোম্পানির বেশির ভাগ শেয়ারের দর বাড়তে দেখা গেছে। ৩২টির মধ্যে ২২টির দর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ৩০ কোম্পানি

আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে ৪২টি কোম্পানিকে “গোয়িং কনসার্ন থ্রেট” বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি বন্ধ তালিকাতেও রয়েছে।

ফলে বন্ধ তালিকার বাইরে কার্যত ৩০টি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আলাদা তালিকায় রাখা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, জুট স্পিনার্স, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং, উসমানিয়া গ্লাস ও ঝিল বাংলা প্রভৃতি।

ডিএসই বলছে, এসব তালিকার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা এবং অনিয়মিত বা অস্বাভাবিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণই মূল উদ্দেশ্য।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!