নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের দাম প্রায় আগের অবস্থানেই রয়েছে। অন্যদিকে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ায় অনেক পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, ডিম বা মাছের ওপর নতুন কোনো শুল্ক আরোপ না থাকায় বাজারে তেমন কোনো চাপ তৈরি হয়নি। বরং ঈদের পর কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে।
মুরগি ও ডিমের বাজার
বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকা কেজি। ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
ক্রেতাদের মতে, ঈদের আগে যে দামে এসব পণ্য বিক্রি হয়েছে, এখনো তার কাছাকাছি দামই রয়েছে।
মাছের বাজার
মাছের বাজারেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারভেদে সামান্য ওঠানামা থাকলেও দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
পাঙাশ ১৮০–২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০–২৩০ টাকা, রুই ২৬০–৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০–৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা, কই, শিং, শোলসহ দেশি মাছের দামও আগের মতোই রয়েছে। চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি থাকছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে।
সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
সবজি বাজারে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেখা গেছে। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বেগুন ৬০ টাকা কেজি, শসা ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে।
গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল
এদিকে গরুর মাংসের দামও আগের মতো ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার পরিস্থিতি
বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেট ঘোষণার পর বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। পণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় ক্রেতারাও কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
রায়েরবাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, “ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই আছে, বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
রিকশাচালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, “সবজির দাম কিছুটা কমেছে, তাই কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু পণ্যের দাম এখনো বেশি।”
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও স্থিতিশীল থাকবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!