বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটির মতে, কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে নতুন অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল অনেকটাই ব্যাহত হতে পারে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই। এতে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। নীতি সুদহার উচ্চ থাকায় ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা বেসরকারি বিনিয়োগের পথে বড় বাধা।
ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এ তহবিলের স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে সহজ শর্তে দ্রুত এ সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি সংকটে থাকা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি খাতে ব্যাংকঋণের উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডিসিসিআইর মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে ব্যাংকিং খাতের তারল্যের বড় অংশ সরকার গ্রহণ করছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিসিসিআইর ভাষ্য, বাজেটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা যদি সাশ্রয়ী সুদে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পান, তাহলে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। তাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!