২০২৫–২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
স্থানীয় ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টপলাইন সিকিউরিটিজ বলছে, এটি গত চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি। পিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে একক মাসের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশের বেশি এবং মে মাসের তুলনায় প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট আমদানি বেড়ে হয়েছে ৬৯ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানি আয় কমে ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
জুন মাসে দেশটির আমদানি ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারে।
একেডি সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক মুহাম্মদ আওয়াইস আশরাফ বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এতে পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ফলে শিল্প উৎপাদন ও ভোগ বেড়েছে। এর প্রভাবে গাড়ি, শিল্পযন্ত্র এবং তুলার আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদ ২২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসাও আমদানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের কম দামের চাল ফিরে আসাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্তে বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ায় পাকিস্তানের রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় হ্রাসের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানের বৈদেশিক খাতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!