অর্থনীতি

পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে, চাপে তৈরি পোশাকশিল্প

আপডেট: জুলা ০৪, ২০২৬ : ০৫:৩৮ এএম
পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে, চাপে তৈরি পোশাকশিল্প

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে অর্থবছরজুড়ে কয়েক মাসে প্রবৃদ্ধি থাকলেও অধিকাংশ মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আয় নিম্নমুখী হয়েছে।

তথ্য বলছে, ওভেন পোশাক রপ্তানি ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য কমে ১৮ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। অন্যদিকে নিট পোশাক রপ্তানি ২১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে। এ খাতে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

মাসভিত্তিক হিসাবে অর্থবছরের শুরুতে জুলাইয়ে রপ্তানিতে ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি হয় ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জুনে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ মাসেই রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। এর মধ্যে মার্চে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ রপ্তানি কমে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের কম দামে পণ্য কেনার চাপ রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সময়ে সুতা, রং, রাসায়নিক, জ্বালানি, শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা লোকসানে পড়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে, কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!