কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ সেই হারে না বাড়ায় চিপের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবেই চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস রেকর্ড পরিচালন মুনাফা করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
আগামী মঙ্গলবার এপ্রিল–জুন প্রান্তিকের প্রাথমিক আর্থিক ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ গুণ বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮৬ লাখ কোটি উওন। গত বছরের একই প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি উওন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ নিয়ে টানা তিন প্রান্তিক রেকর্ড মুনাফার পথে রয়েছে স্যামসাং। এর প্রধান কারণ এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোয় মেমোরি চিপের বাড়তি চাহিদা।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শুধু উচ্চক্ষমতার হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (HBM) নয়, প্রচলিত ড্র্যাম (DRAM) ও ন্যান্ড (NAND) চিপের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এজেন্টিক এআইসহ নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বেশি মেমোরি ও স্টোরেজ প্রয়োজন হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া, গুগল ও অ্যাপল-এর মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মেমোরি চিপ সরবরাহকারী স্যামসাং। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমান সরবরাহ সংকট আগামী বছর পর্যন্তও অব্যাহত থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ড্র্যামের গড় বিক্রয়মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৪ শতাংশ এবং ন্যান্ড চিপের দাম ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারেও। চলতি বছরে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রোনের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, কর্মীদের বিশেষ বোনাসের জন্য স্যামসাং যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থ সংরক্ষণ করে, তাহলে চূড়ান্ত মুনাফা পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি চিপ বিভাগের কর্মীদের জন্য পরিচালন মুনাফার একটি অংশ বোনাস হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদে এআই অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে মেমোরি চিপের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, বর্তমানে ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনি ব্যয়ের বড় অংশই এআই-সম্পর্কিত চিপে বিনিয়োগ হচ্ছে।
তবু স্বল্পমেয়াদে বাজারের চিত্র স্যামসাংয়ের পক্ষেই রয়েছে। আগামী জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেও ড্র্যাম ও ন্যান্ড চিপের দাম আরও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস। তবে চিপের দাম বাড়ার ফলে স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে, যা স্যামসাংয়ের মোবাইল ফোন ব্যবসার মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিষ্ঠানটি আবারও স্মার্টফোনের দাম বাড়াতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!