অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাড়লেও কমেছে দেশের পোশাক রপ্তানি

আপডেট: জুলা ০৮, ২০২৬ : ০৬:১০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাড়লেও কমেছে দেশের পোশাক রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশীদারিত্ব বেড়ে ২০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক।

এই তিনটি বাজারে সম্মিলিতভাবে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশের বেশি গেছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমার প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে এ অঞ্চলের অংশীদারিত্ব ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে। মোট রপ্তানিতে এ বাজারগুলোর অংশও ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে।

পণ্যের ধরনেও ছিল ভিন্ন চিত্র। নিটওয়্যার রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমলেও ওভেন পোশাকের রপ্তানি তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এ খাতে রপ্তানি কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার ধারা উদ্বেগের। এ পরিস্থিতিতে বাজার বহুমুখীকরণ, নতুন ক্রেতা আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর আরও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!