অর্থনীতি

ট্রেড ফাইন্যান্সে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের তাগিদ বিআইবিএম মহাপরিচালকের

আপডেট: জুলা ০৯, ২০২৬ : ০৬:০২ এএম
ট্রেড ফাইন্যান্সে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের তাগিদ বিআইবিএম মহাপরিচালকের

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড ফাইন্যান্সের সুযোগ বাড়াতে উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য ও কার্যকর ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে পণ্যভিত্তিক তথ্যসংগ্রহ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজবিহীন করতে ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টের জন্য আধুনিক আইনগত ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও কার্যকর ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

কর্মশালায় বিআইবিএমের অধ্যাপক (সিলেকশন গ্রেড) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব ‘ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংক’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। গবেষণায় বলা হয়, ট্রেড ফাইন্যান্সে বড় ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন ব্যাংকগুলোর ট্রেড-সংশ্লিষ্ট ঋণ পোর্টফোলিওতে সম্পদের গুণগত মানের ওপর চাপ স্পষ্ট। এসব ব্যাংকে ট্রেড ফাইন্যান্স-সংক্রান্ত খেলাপি ঋণের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। আর যেসব ব্যাংকে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের হার বেশি এবং ট্রেড ফাইন্যান্সেও উল্লেখযোগ্য এক্সপোজার রয়েছে, সেখানে এ হার ৮০ শতাংশের বেশি।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, নন-ফান্ডেড দায় জোরপূর্বক ঋণে রূপান্তরিত হওয়াই ট্রেড ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি, তুলা, বিভিন্ন কাঁচামাল, চিনি, সার, জ্বালানি ও স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিসংক্রান্ত অর্থায়নে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, আইনগতভাবে কার্যকর ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি ছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবহারের কারণে রপ্তানি অর্থায়নে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে। সময়মতো রপ্তানি আয় না এলে বা আদায় না হলে ট্রেড ফাইন্যান্সের স্বয়ং-পরিশোধযোগ্য বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে তা দ্রুত জোরপূর্বক ঋণে পরিণত হয়।

কর্মশালায় বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা ট্রেড ফাইন্যান্সের আধুনিকায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!