অর্থনীতি

রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, খাতভিত্তিক কারণ জানতে কমিশনারেটে এনবিআরের চিঠি

আপডেট: জুলা ১৪, ২০২৬ : ০৫:০৪ এএম
রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, খাতভিত্তিক কারণ জানতে কমিশনারেটে এনবিআরের চিঠি

লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির পর বিভিন্ন খাতে আদায় কমে যাওয়ার কারণ খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য মাঠপর্যায়ের কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর কমিশনারেটগুলোর কাছে কারণ ব্যাখ্যা এবং রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআর সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি হয়েছে। এ অবস্থায় কোন কোন খাতে রাজস্ব কমেছে, তার কারণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে আদায় বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা জানতে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিরতা এবং কর আদায় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন জটিলতার কারণে রাজস্ব আহরণ ব্যাহত হয়েছে। তবে কর ফাঁকি রোধ, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে চায় সংস্থাটি।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা পূর্ব, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কাস্টমস, ভ্যাট ও এক্সাইজ কমিশনারেটের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ পণ্য ও সেবা খাতে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক খাতে আদায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

এনবিআরের বিশ্লেষণে যেসব খাতে রাজস্ব কমেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, ইলেকট্রনিক পণ্য, প্লাস্টিক ব্যাগ, সিরামিক ও ইটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক ফ্যান ও যন্ত্রাংশ, রাবারপণ্য এবং স্টিল সামগ্রী। সেবা খাতের মধ্যে রয়েছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, জুয়েলারি ব্যবসা, তৈরি পোশাক খাত, অডিট ও অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং ডেকোরেটর ও ক্যাটারিং সেবা।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটগুলোকে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আদায় বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই ধরনের নির্দেশনা আয়কর বিভাগের কর অঞ্চলগুলোকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, শুধু কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ দিলেই রাজস্ব আদায় বাড়বে না। কর ব্যবস্থার অটোমেশন, করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং হয়রানি কমানোর মাধ্যমে কর আদায়ের ভিত্তি সম্প্রসারণ করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক হিসাবে আয়কর থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাত থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। তিনটি প্রধান রাজস্ব খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!