অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়; এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। তিনি বলেন, বাজেটকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে অর্থ বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড় থেকে দুই মাসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন এর লক্ষ্য বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ উদ্যোগে বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তনের সময় এসেছে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দাপ্তরিক সভাগুলোতে মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতবিনিময়ের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, তার কার্যকর সমাধানের পথও খুঁজে বের করতে হবে। অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত এলে তা নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে অর্থ বিভাগকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র করার পরিকল্পনা
পরে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে।
তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান ৫০ ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, রেল যোগাযোগ এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে কক্সবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!