অর্থনীতি

জলবায়ু–সম্পর্কিত অভিবাসন মোকাবিলায় বাংলাদেশ–আইওএমের নতুন প্রকল্প

আপডেট: জুলা ২৫, ২০২৬ : ০৫:১৩ এএম
জলবায়ু–সম্পর্কিত অভিবাসন মোকাবিলায় বাংলাদেশ–আইওএমের নতুন প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও বাংলাদেশ সরকার ১১ লাখ ২৫ হাজার ইউরোর একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত অভিবাসন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করা হবে।

শুক্রবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও আইওএম বাংলাদেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু–সম্পর্কিত অভিবাসনে সমন্বিত পদ্ধতির প্রসার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন নিয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়, প্রবাসীদের জলবায়ু কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিবাসন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশলের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, অভিবাসন সুশাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আইওএমের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রকল্পটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতাকেও আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে ইআরডি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ইআরডি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু–সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!