অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট তেলের দাম

আপডেট: জুলা ২৫, ২০২৬ : ০৫:২৬ এএম
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। মে মাসের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম এ পর্যায়ে উঠল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের প্রথম দফায় গত ১২ মার্চও ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছিল। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পরও একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। এতে তেল পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বে দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে প্রতিদিন ১০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল ব্যবহৃত হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংকটের কারণে। হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছিল। তবে ওই পথেও হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহব্যবস্থা আবারও চাপে পড়েছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মায়া সেনুসি বলেন, লোহিত সাগরপথে জাহাজ চলাচল স্বল্পমেয়াদে কম কার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তাঁর মতে, অবরোধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তেল পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের পূর্বাভাস, যদি হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর—দুই পথই কার্যত অচল হয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৬০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে জানিয়েছে আইইএ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাসহ কয়েকটি দেশ তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পথে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।

এ ছাড়া আইইএর সদস্যভুক্ত প্রায় ৩০টি দেশের সম্মিলিত কৌশলগত তেল মজুত একশ কোটি ব্যারেলের বেশি। চলতি মাসের শুরুতে জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, সমুদ্রে পরিবহনাধীন তেলের পরিমাণ রেকর্ড ১৩৫ কোটি ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত মজুত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!