দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বর্তমানে নিরাপদ সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারের ধারণক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারি গুদামগুলোতে চাল, গম, ধান ও ফ্লোটিং মজুত মিলিয়ে মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন। দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের ন্যূনতম সীমা দীর্ঘদিন ধরে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধরা হলেও সরকার সেটি বাড়িয়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান মজুত সেই সীমারও অনেক ওপরে রয়েছে।
বর্তমানে সরকারি গুদামে চালের মজুত ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন, গমের মজুত ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টন এবং ধান রয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ফ্লোটিং মজুত হিসেবে রয়েছে ৮ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন চাল।
চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন ধান, ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল এবং ৭৬ হাজার ৮১৪ মেট্রিক টন আতপ চাল। একই সময়ে ৫২৩ মেট্রিক টন গমও সংগ্রহ করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ওএমএসসহ সরকারি বিতরণ কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোচ্ছে। কৃষক ও চালকল মালিকদের সহযোগিতায় সংগ্রহ কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। বর্তমান মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) গবেষণা পরিচালক ফিরোজ আল মাহমুদ বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য মজুত এবং সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন, যা আগে ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এটি ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সচল রাখতে নিয়মিতভাবে গুদাম থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!