দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, মাইক্রো, কুটির ও মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, এসব শিল্পের প্রসার ঘটলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং আয়বৈষম্য কমে আসবে।
শনিবার বগুড়া বিসিক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ জিডিপির প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ হার ৬০ শতাংশের বেশি করা সম্ভব হলে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ আরও সচল হবে। একই সঙ্গে আয়বৈষম্য কমবে, কারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষ সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র, মাঝারি, মাইক্রো ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো। অর্থনীতির পুরো প্রাণপ্রবাহে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা যত বাড়বে, অর্থনৈতিক সুফল তত বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।’
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াশিল্পে প্রশিক্ষণ
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও চামড়াশিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ দুই খাতে নকশা ও কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রটির ভৌত অবকাঠামোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতালি, জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ডিজাইন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অপারেটরদের দক্ষতা উন্নয়নেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার পাশাপাশি সৈয়দপুরও এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রেলওয়ে জংশন ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৈয়দপুর একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হাব। এ অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের জন্য ওই কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শ্রমঘন শিল্পে গুরুত্ব
বাংলাদেশের শিল্প কাঠামো প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের মতো অর্থনীতিতে শ্রমঘন শিল্পের গুরুত্ব অনেক বেশি। হাইটেক ও অধিক পুঁজিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার পরিমাণ বেশি হলেও এসব খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প শ্রমঘন ও কম পুঁজিনির্ভর।
তিনি বলেন, ‘১৩-১৪ শতাংশ সুদে কম পুঁজির ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
জ্বালানি সরবরাহে উদ্যোগ
শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিল্পের জন্য জ্বালানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে অতীতে তৈরি হওয়া নানা জটিলতা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সময়ের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, সেটি এমন জটিল যে ফুঁ দিয়ে এর সমাধান করা যাবে না। এর জন্য সময় দরকার, কঠিন বাস্তব পরিকল্পনা দরকার এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন দরকার।’
এ সময় উদ্যোক্তাদের কম জ্বালানি-নির্ভর প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা সরকার দেবে বলেও জানান শিল্পমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন এবং নারী উদ্যোক্তা শামসুন নাহার স্বর্ণা।
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ করেন শিল্পমন্ত্রী।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!