অর্থনীতি

ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১২, ২০২৬ : ০৬:০২ এএম
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও প্রবৃদ্ধির জায়গায় নিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীল এবং পরে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, অর্থনীতি চাঙা করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। এতে ব্যবসায়ীরা বাধাহীনভাবে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামে কাস্টমস ও বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কাস্টমস-বন্দরের সমস্যা চিহ্নিত, সময়সীমা নির্ধারণ

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথভাবে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে কাস্টমস ও বন্দরের প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্তগুলো বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কোন সিদ্ধান্ত কত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিরও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমসকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের হলেও এবারই প্রথম এভাবে যৌথভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিদ্ধান্তগুলো সাহসের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।

অনিয়মে জড়িত কাউকে ছাড় নয়

কাস্টমস ও বন্দরের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন অর্থমন্ত্রী। প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো অনৈতিক ব্যবসাও চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ পণ্য খালাসের জটিলতা প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ ও আটকে থাকা পণ্যের জট তৈরি হয়েছে। বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আটকে থাকা একাধিক কনটেইনারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

কাস্টমস চত্বরকে এসব জট থেকে পুরোপুরি মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পণ্য খালাস বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় কিংবা প্রভাব কোনো কাজে আসবে না। কারও জন্য আলাদা সুযোগ-সুবিধা বা পৃষ্ঠপোষণমূলক ব্যবস্থারও কোনো স্থান থাকবে না।

চট্টগ্রামকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু করতে চায় এডিবি

চট্টগ্রামকে ঘিরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম নিয়ে এডিবির বড় পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আমির খসরু বলেন, এডিবি চট্টগ্রামকে শুধু একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে দেখছে না। আগামী দিনে পুরো বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে চট্টগ্রামকে দেখতে চায় তারা।

চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবি চট্টগ্রামকে শুধু লজিস্টিকস হাব নয়, পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি বিশেষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!