অর্থনীতি

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আপডেট: আগ ১৬, ২০২৬ : ০৫:১৫ এএম
সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

সিলেট অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমি চাষের আওতায় আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচসুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ শনিবার সিলেট নগরের হোটেল মেট্রোর সম্মেলনকক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিলেটের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব। একইভাবে সেচসুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যেতে পারে।

জলাবদ্ধতা দূর করা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতে খাল খননের ওপরও গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।

মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সম্ভাবনা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চাল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারবে।

নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নেওয়া কৃষকেরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরমুজ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নতুন ফসলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!