অর্থনীতি

চীনের সহযোগিতায় বস্ত্র ও পাট খাত আধুনিকায়নের সম্ভাবনা: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

আপডেট: আগ ১৮, ২০২৬ : ০৫:২৪ এএম
চীনের সহযোগিতায় বস্ত্র ও পাট খাত আধুনিকায়নের সম্ভাবনা: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে দেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনকারী এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘কস্টিউম, কালচার অ্যান্ড কানেকশন: অ্যা বাইলেটারাল সিম্পোজিয়াম অন ট্র্যাডিশনাল অ্যাটায়ার অ্যান্ড কালচারাল এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক দ্বিপক্ষীয় সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়নে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।

চীনের সঙ্গে শিক্ষায় সহযোগিতা

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা হবে। এ জন্য কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টিদের চীনে পাঠিয়ে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।

উচ্চমূল্যের পণ্যে জোর

দেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকেও আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

এ জন্য ম্যান-মেড ফাইবার ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পাটে নতুন সম্ভাবনা

পাটকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাটের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।

চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিক ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা গেলে এ খাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়বে। এতে কৃষকেরাও লাভবান হবেন এবং পাট চাষে তাঁদের আগ্রহ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রতিনিধিরা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!