অর্থনীতি

চাহিদার তুলনায় দেশে সারের সরবরাহ প্রস্তুত ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন বেশি

আপডেট: সেপ্টে ১৫, ২০২৬ : ০৫:৪৩ এএম
চাহিদার তুলনায় দেশে সারের সরবরাহ প্রস্তুত ১৫ লাখ ৮৪ হাজার টন বেশি

দেশে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলাভিত্তিক চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহের পরিমাণ ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের চিঠি ও সংযুক্ত জেলাওয়ারি বরাদ্দ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নথিতে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন উৎস থেকে সার বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলার জন্য টিএসপি সারের চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন। এর পুরো পরিমাণই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে।

ডিএপি সারের চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার টন এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ টন বরাদ্দ করেছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও পুরো চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া অক্টোবর মাসে এমওপি সারের চাহিদা ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন। সমপরিমাণ সারই জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সমপরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক চাহিদা বিবেচনায় বরাদ্দ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার চাহিদার ভিত্তিতে আলাদা পরিমাণ নির্ধারণ করে সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয়ভাবে একক বরাদ্দের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আমদানির ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা হচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে আগস্ট মাসেও বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে এমওপি আমদানির প্রস্তাব ছিল।

মজুত ও পরিবহনাধীন সার

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল।

এ ছাড়া পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন।

সার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটি এবং ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘সার সরবরাহে ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বাসসকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। কোন এলাকায় কত সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছাবে—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সার সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বাসসকে বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

সচিব বলেন, কিছু জায়গায় বিতরণে অনিয়মের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকারের তৎপরতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ জন্য আমদানি, মজুত, জেলাভিত্তিক বরাদ্দ, পরিবহন ও বিতরণ—প্রতিটি ধাপ সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সার সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন মৌসুমের আগেই চাহিদা নির্ধারণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে কৃষককে শেষ মুহূর্তে সার সংগ্রহের জন্য বাড়তি চাপ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে না।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!