দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্সন রোডে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচিতি ও মতবিনিময় সভাটির আয়োজন করা হয়।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প বিভিন্ন ব্যবস্থা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল সংগ্রহে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে কম দামে বিক্রি করায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এতে সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হলেও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার সেই চাপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, হরমুজ প্রণালির সংকটের পর বাব-এল-মানদেব ও ইস্ট-ওয়েস্ট রুটেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে তেল সংগ্রহে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের তেলের কোনো সংকট নেই এবং আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেকটাই নিরাপদ।’
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম খাতে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য কাজ চলছে। তৃতীয় টার্মিনাল ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। এটি চালু হলে সেখানে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হবে না।
এলপিজি আমদানির বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, মাতারবাড়ীতে এফএসইউ স্থাপনের পাশাপাশি ভিএলজিসির মাধ্যমে বড় পরিমাণে এলপিজি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এলপিজি আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার আওতায় চলতি মাসের শেষে একটি চালান আসতে পারে বলে জানান তিনি। আর ভিএলজিসির মাধ্যমে বড় চালান চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের জানুয়ারিতে আসার আশা করা হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে এফএসইউ আনা সম্ভব হলে দ্রুত এলপিজি আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
মতবিনিময় সভায় বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!