অর্থনীতি

এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, কমবে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

আপডেট: অক্টো ১৮, ২০২৬ : ০৫:৫৫ এএম ৫ ০
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, কমবে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি

ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় কমাতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বারবার পরিদর্শনের পরিবর্তে একই দিনে যৌথ পরিদর্শন চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়াও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শনিবার (১৭ অক্টোবর) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব উদ্যোগের কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার পাশাপাশি অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং হয়রানি কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনলাইনেই আবেদন ও লাইসেন্স সংগ্রহ

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় এসব কার্যক্রম একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সের পরিবর্তে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা এ ধরনের কোনো নাম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে লাইসেন্স সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে বলে মনে করছে সরকার।

এক দিনেই একাধিক সংস্থার পরিদর্শন

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর নেতৃত্বে ভবন নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পরিদর্শন একই দিনে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও যৌথ পরিদর্শনে অংশ নেবেন। এতে একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। ফলে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

সভায় জানানো হয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন, পারমিট ও লাইসেন্স প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে দ্বৈততা দূর করতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা পর্যালোচনা করে অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশি কর্মীদের অনুমোদন নবায়ন সহজ করার তাগিদ

বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা বাংলাদেশে বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকেরাও দেশের বৈধ নাগরিক। এসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী অংশ নেন।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!